সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৮:২২ অপরাহ্ন

আফগানিস্তান ‘বিশ্বের সবচেয়ে দমনমূলক দেশে’ নারী দিবসের মিছিল

নিউজ ডেস্ক: যেদিন আফগানিস্তানকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে দমনমূলক দেশ’ হিসেবে আখ্যা দিল জাতিসংঘ, সেদিনই দেশটির রাজধানী কাবুলে নারী দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন অন্তত ২০ জন নারী। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে সাধারণ আফগানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন নারীরা।বুধবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কাবুলে আফগান নারীদের আয়োজিত মিছিলটির সময় সেখানে এএফপির আফগানিস্তান প্রতিনিধি নিজে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক এই বার্তাসংস্থা।

২০২১ সালে দেশের ক্ষমতা দখলের পর থেকে এখন পর্যন্ত নারীদের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ জারি করে যাচ্ছে কট্টর ইসলামপন্থী তালেবান গোষ্ঠী। ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, বিদেশভ্রমণ এমনকি বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে তালেবান।জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের প্রধান রোজা ওটুনবায়েভা বুধবার এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে দমনমূলক দেশ’ উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা (তালেবান) যেভাবে পদ্ধতিগত, স্বতঃস্ফূর্ত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে জনজীবন থেকে নারীদেরকে বিচ্ছিন্ন করে তাদেরকে গৃহে আবদ্ধ করছে— এটা দেখাও কষ্টকর।’

জাতিসংঘের মিশনপ্রধান আরও বলেন, মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিক থেকে এই মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ আফগানিস্তান। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি নারীদের প্রতি যে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে— তা জাতিগতভাবে আফগানদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।অত্যাবশ্যক ক্ষেত্রগুলো ছাড়া সব সরকারি চাকরি থেকে ইতোমধ্যে নারীদের বিতাড়িত করেছে ক্ষমতাসীন তালেবানগোষ্ঠী। যেসব নারী এখনও তাদের চাকরি টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন, তাদের বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।পার্ক, মেলা এমনকি পথে ঘাটে গণশৌচাগারেও নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে তালেবান।

কিন্তু সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক যে নীতিটি নিয়েছে এই গোষ্ঠী, তা হলো নারীদের মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষায় স্থগিতাদেশ দেওয়া।এসব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এর আগেও প্রতিবাদ করেছেন আফগান নারীরা, কিন্তু তালেবানের সশস্ত্র বাহিনী সহজেই সেসব মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছেন, মিছিল থেকে নারীদের গ্রেপ্তার ও পরে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগও রয়েছে বাহিনীর বিরুদ্ধে।বুধবার কাবুলে নারী দিবসের মিছিল শেষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারীরা। মিছিলে উপস্থিতি একজন নারী এএফপিকে বলেন, ‘সাধারণ আফগান জনগণের ভাগ্যে কী ঘটবে— সে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সিদ্ধান্তমূলক অবস্থান গ্রহণের সময় এসেছে জাতিসংঘের।’


Leave a Reply

Your email address will not be published.

Design & Developed BY N Host BD