সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

এসএলএসডি স্কুল অফ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের ১ম গ্র্যাজুয়েটদের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক: গত ১৫ই জানুয়ারী শুক্রবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গুলশানের হোটেল লেইক ব্রীজে অনুষ্ঠিত হলো এসএলএসডি স্কুল অফ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের ১ম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটদের সমাবর্তন। অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্ত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ঢাকা চেম্বার অভ কমার্স এণ্ড ইণ্ডাস্ট্রীজের সিনিয়র সহ সভাপতি এনকেএ মবিন, এফসিএ, এফসিএস।

“অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা, জটিলতা এবং অস্পষ্টতা মানুষের আবেগকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই অস্থির আবেগের যথাযথ সচেতনতা ও ব্যবহারই পারে মানুষের জীবনকে সুন্দর ও শান্তিপুর্ন করতে। ইমোশনাল ইণ্টেসিজেন্সের জ্ঞান ও এর চর্চাই পারে এর সমাধান দিতে। সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কীলস্ ডেভেলপম্যাণ্ট (এসএলএসডি) প্রথমবারের মত ইমোশনাল ইণ্টিলিজেন্স এর উপর আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজী এবং বাংলায় অনলাইন কোর্স চালু করার পাশাপাশি বাংলায় ইমোশনাল ইণ্টিলিজেন্সের উপর একটি দক্ষতা চর্চা ভিত্তিক বই প্রকাশ করেছে । ইমোশনাল ইণ্টিলিজেন্স এর আরো ব্যাপক চর্চা সম্প্রসারনের জন্য এসএলএসডি স্কুল অভ্ ইমোশনাল ইণ্টিলিজেন্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এই গ্র্যাজুয়েটরা এসএলএসডি স্কুল অফ ইমোশনাল ইণ্টিলিজেন্সের উপহার। এদের মাধ্যমে ইমোশনাল ইণ্টিলিজেন্স বা ‘আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা’ কে আরো সহজভাবে সবার কাছে পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য।“ বললেন সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কীলস্ ডেভেলপম্যাণ্ট এসএলএসডি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিইও অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী। প্রধান অথিতি হিসেবে ঢাকা চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেণ্ট এনকে মবিন খান, এফসিএস, এফসিএ বলেন, “আমরা সব সময় জ্ঞানী এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন লোকজন কে নিয়োগ দিতে চাই। কারণ, সে যেন তার আবেগকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পন্ন করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরীকে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এর কর্ণধার হিসেবে বাংলাদেশে এর নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন এবং আমার পূর্ণ সমর্থন জানাই। এস এল এস ডি স্কুল অফ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাক। আমি এসএসডি এবং আজকের সফল গ্র্যাজুয়েটদের উত্তরোত্তর উন্নতি এবং মঙ্গল কামনা করছি।“

সম্মানিত অতিথি নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ডঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকে জাতীয় পাঠ্যকার্যক্রমের ভেতর নিয়ে আসতে হবে। এসএলএসডি ইমোশনাল ইণ্টেলিজেন্সের শিক্ষা এবং চর্চায় জাতীয়ভাবে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।“ ফেডারেশন অভ বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স অরগানাজেশনস্ (এফবিএইচআরও) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ”এই রকম শিক্ষা কার্যক্রম মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় আরো বেশী বেশী করে করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ‘ইমোশনাল ইণ্টিলিজেন্স’ বা ‘আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা’কে জনপ্রিয় করতে এবং তা সর্বসাধারনকে সহজভাবে বুঝানো এবং চর্চা করার ক্ষেত্রে অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী এবং তাঁর সংগঠন সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কীলস্ ডেভেলপম্যাণ্ট (এসএলএসডি) প্রসংশনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।

“ সমাবর্তনের বক্তা হিসেবে ইউএন উইম্যানের জাতীয় পরামর্শক, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রশিক্ষক ও জেণ্ডার বিশেষজ্ঞ নীলুফার করিম বলেন, “ইমোশনাল ইণ্টেলিজেন্সের সহমর্মিতা পারে নারী-পুরুষের সম্পর্কের সেতু নির্মান করতে। প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইমোশনাল ইণ্টেলিজেন্স একটি চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে। আশা করবো সার্টিফাইড ইআই গ্র্যাজুয়েটদের প্রথম ব্যাচ সেই জ্ঞানের আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিবে।“ “ইনফিনিটি গ্রূপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমাবর্তনের আরেক বক্তা শারমিন আফরোজ সুমী বলেন, “ইমোশনাল ইণ্টেলিজেন্স আজীবন শিক্ষাকার্যক্রমের কথা বলে। আশা করবো আজকের সার্টিফাইড ইআই গ্র্যাজুয়েটরা এই আনুষ্ঠানিক সনদ পাওয়ার পর প্রতিনিয়ত আরো বেশী দক্ষতা ভিত্তিক শিখন ও প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত থাকবেন। ইনফিনিটি গ্রূপ সবসময় এইরকম শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে আছে। এসএলএসডি এবং সব গ্র্যাজুয়েটদের জন্য শুভকামনা।

“ চালডাল ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া আশরাফ বলেন, “আমার খুবই ভালো লাগছে এইরকম একটি অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে থাকতে পেরে। সৃজশীলতা এবং ইমোশনাল ইণ্টেলিজেন্সকে একসাথে ব্যবহার করে আমরা অনেক কিছু করতে পারি। অন্যেরা বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখবে। আমরা এগিয়ে যাবো। আপনারা আপনাদের জ্ঞান ব্যবহার করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সবাইকে অভিনন্দন।“ বোল্ডের সভাপতি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক কাজী এম আহমেদ বলেন, “সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সার্টিফাইড ইআই গ্র্যাজুয়েটদের দায়িত্ব বেড়ে গেলো। আপনারা হবেন অন্যদের জন্য ইআই আচরণের রোল মডেল। সবার জন্য শুভ কামনা।“ ১ম ব্যাচে মোট ১৬ জন্য সার্টিফাইড ইআই গ্র্যাজুয়েট হলেন।

তাঁরা হলেনঃ ডঃ মো সাইফুল ইসলাম, নুরুল মুজতবা চৌধুরী, মোঃ আশিকুজ্জামান, মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, এস এম আব্দুল কাইয়ুম, মোঃ সোলায়মান আহমেদ জীসান, আম্বরীন সাজ্জাদ, মোঃ আলামিন, এনি ক্রূজ, সৈয়দ তানভীর আহমেদ, নূর আহমেদ, নাভিদ বিন আহমেদ, ফারহানা বারী, নজরুল ইসলাম, সামিহা নওশিন এবং মোঃ রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে সবার সম্মতিক্রমে ডঃ মোঃ সাইফুল ইসলামকে সভাপতি ও মোঃ সোলায়মান আহমেদ জীসানকে মহাসচিব করে বাংলাদেশ ইআই প্র্যাকটিশনারস্ ক্লাব গঠন করা। ইমোশনাল ইণ্টেলিজেন্সের নিয়মিত চর্চাই এই ক্লাবের মুল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানটির সাপোর্টিং পার্টনার ছিলো ইনফিনিটি গ্রূপ, স্ট্রেটিজিক পার্টনার ছিলো এসএসডিসি এবং মিডিয়া পার্টনার সিএনআই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design & Developed BY N Host BD