বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১২:১৯ অপরাহ্ন

‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ তদন্তে ৩০০ অনুসন্ধান কমিটির জন্য নির্দেশনা ইসির

নিউজ ডেস্কঃ ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে গঠিত ৩০০ নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেখানে তারা কোন ধরনের অপরাধ আমলে নিয়ে তদন্ত করতে পারবেন তাও উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশনাতে।নির্বাচন কমিশন থেকে অনুসন্ধান কমিটিগুলোর কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে জারি করা পরিপত্র-৫ এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিপত্রে ইসি জানায়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে The Representation of the People Order, 1972 (PO No. 155 of 1972) Gi Article 91A এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার জন্য একজন যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ’র সমন্বয়ে সারাদেশে ৩০০টি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে।

নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ সংক্রান্তে অনুসন্ধান করে কমিশনের করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব বা সুপারিশসহ অনুসন্ধানের তিনদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দিতে হবে।ক) নির্বাচনী অপরাধ (The Representation of the People Order, 1972 Gi article 73 article 86 ); খ) সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর লঙ্ঘনজনিত বিষয় বা ঘটনাসমূহ ও গ) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কৃত কোনো কার্য বা বিচ্যুতির ফলে ভীতি, বাধা, দমন বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি বা পরিচালনায় বাধাগ্রস্ত বা ব্যাহত করে এমন ঘটনাসমূহ।

ইসি জানায়, নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি থেকে প্রাপ্ত তথ্য বা তার নিকট দাখিলকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে বা নিজ উদ্যোগে ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ সংক্রান্ত বিষয়গুলো বা ঘটনাসমূহ অনুসন্ধান করতে পারবেন। এমনকি ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ সংক্রান্ত অভিযোগ ও ঘটনা নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটার্নিং অফিসার/নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কমিটির কাছ থেকে পেয়ে থাকলে তা অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন কমিশনের কাছে প্রেরণ করবেন।

অনুসন্ধান কমিটি কোন ব্যক্তিকে এর সম্মুখে হাজির হতে ও শপথপূর্বক সাক্ষ্য প্রদানে এবং কমিটির নিকট প্রয়োজনীয় দলিল বা বস্তু দাখিল করতে কোড অব সিভিল প্রসিডিউর, ১৯০৮ (অ্যাক্ট ভি অব ১৯০৮) এর অধীন দেওয়ানী আদালতের ন্যায় একই ক্ষমতাবান হবেন। কমিটির কার্যক্রম পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ১৯৩ ও ২২৮ ধারায় বর্ণিত বিচারিক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে।

পরিপত্রে ইসি জানায়, নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি দায়িত্ব পালনের সময় নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম সংঘটিত হলে তা অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসার উক্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিব বরাবর প্রেরণ করবেন এবং অতিসত্ত্বর উক্ত প্রতিবেদন পিডিএফ ফরমেটে সচিবালয়ের আইন অনুবিভাগের উপসচিব (লিগ্যাল এফিয়ার্স) ও সিনিয়র/সহকারী সচিব (আইন বিষয়ক-১) এর ইন্টারনাল একাউন্টে প্রেরণ করবেন।

সংস্থাটি আরও জানায়, নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত জ্বালানি ও আপ্যায়ন ব্যয়সহ বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। অনুসন্ধান কার্য পরিচালনার ব্যাপারে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চাহিদা অনুসারে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া, নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিসগুলোর কর্মকর্তাদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালন সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা ব্রিফিং দেওয়া হবে এবং দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত আইন ও বিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল দেওয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.

Design & Developed BY N Host BD