শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন

বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

নিউজ ডেস্কঃ আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষক সমিতি।

গতকাল সোমবার (৫ এপ্রিল) শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আবু সালেহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আর্থিক সুবিধাসহ প্রাপ্যতার তারিখ থেকে আপগ্রেডেশন, শিক্ষা ছুটির বিপরীতে যোগদানকৃত শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণ নিয়ে প্রশাসন খামখেয়ালি আচরণ ও সময়ক্ষেপণ করছে। ফলে আপগ্রেডেশনের বিষয়টি জটিল থেকে আরও জটিলতর হয়ে উঠেছে এবং শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ সব বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্যের সাথে শিক্ষক সমিতি বারবার আলোচনা করলেও তা শুধু আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, চাপের মধ্যে আপগ্রেডেশনের ভাইভা নিম্নতর বোর্ড (lower Board) শেষ করলেও, দীর্ঘ ১ মাসেও রিজেন্ট বোর্ড সভা আয়োজনের কোনো কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষকদের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৫ এপ্রিলের মধ্যে রিজেন্ট বোর্ড সভা আয়োজনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ৬ এপ্রিল থেকে সকল প্রকার অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

শিক্ষক সমিতি এই সিদ্ধান্তও ইতোমধ্যেই উপাচার্যকে অবহিত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষক সমিতির সাথে উপাচার্য আলোচনায় বসেন। ওই আলোচনায় উপাচার্য ১২ এপ্রিলের মধ্যে প্রাপ্যতার তারিখ থেকে আপগ্রেডেশন কার্যকর করার লক্ষ্যে রিজেন্ট বোর্ড সভা আয়োজন করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু গত ৪ এপ্রিল শিক্ষক সমিতি পুনরায় রিজেন্ট বোর্ড আয়োজন করার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে উপাচার্যের সাথে দেখা করে। এ সময় উপাচার্য জানান, লকডাউনের কারণে রিজেন্ট বোর্ডের সভা আয়োজন সম্ভব নয়। পরে শিক্ষক সমিতি বিকল্প হিসেবে অনলাইনে ভাইভা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু উপাচার্য অনলাইনে ভাইভা নেবে না বলে শিক্ষক সমিতিকে জানায়। যদিও তিনি আন্তরিক হলে আরও আগেই সকল পর্যায়ের ভাইভা সমাপ্ত করা সম্ভব ছিল বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ফলে শিক্ষক সমিতি আপগ্রেডেশন নিয়ে উপাচার্যের উদাসীনতা ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে তীব্র প্রতিবাদ করে।

সর্বশেষ উপাচার্য কোনো অবস্থায় কিছু করতে পারবেন না বলে শিক্ষক সমিতিকে সাফ জানিয়ে দেয়। একই সাথে লকডাউন পরিস্থিতির উত্তরণ পর্যন্ত শিক্ষকদের অপেক্ষা করতে বলেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি কার্যকরী কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গত ২২ মার্চ, ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সকল শিক্ষকদের মতামত অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল থেকে সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার গৃহীত সিদ্ধান্ত কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য ড. এ কিউ এম মাহবুব বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৩০টা বিভাগের আপগ্রেডেশন ভাইভা শেষ করেছি। এছাড়া যে চারটি বিভাগের ভাইভা বাকি রয়েছে সেগুলোও লকডাউন শেষ হলে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি লকডাউনের জন্য ভাইভা ও রিজেন্ট বোর্ডের বিষয়টি আটকে আছে। তবে শিক্ষকরা যদি এরপরও বর্তমান পরিস্থিতি না বুঝে এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমার কিছু করার নেই।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ২৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকদের প্রাপ্যতার তারিখ থেকে প্রমোশন ও শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি ধারাবাহিক মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design & Developed BY N Host BD