রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

রাজধানীতে কোরবানি ঈদকে ঘিরে মসলার বাজারে বাড়ছে উত্তাপ

নিউজ ডেস্কঃ কোরবানির ঈদের এখনো দুসপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেই উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে মসলার বাজারে। এক মাসেরও বেশি সময় দাম স্থিতিশীল থাকলেও কোরবানির ঈদ ঘিরে চাহিদার কারণে বাড়তে শুরু করেছে মসলার দাম।

রাজধানীর মসলার বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে এলাচ, লবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি মসলার দাম বেড়েছে। এর মধ্যে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রয়োজনীয় এ মসলার দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বাড়ায় ও চাহিদা কম থাকায় জুলাই মাসের শুরুতে মসলা দাম কিছুটা কমে যায়। কিন্তু কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে ক্রেতা ও চাহিদা দুটোই বেড়েছে। তাই দাম কিছুটা বাড়তি। ঈদের আগে দাম আরও বাড়তে পারে।

গতকাল রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ ও রামপুরাসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজারে মসলার খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে মান ও আকার ভেদে এলাচ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৪০০ থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায়। এলাকার ছোট বাজার ও মুদির দোকানগুলোয় বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে চার হাজার ৮০০ টাকা।

মালিবাগ বাজারের পাইকারি মসলা বিক্রেতা মো. সাঈদ হোসেন জানান, পাইকারিতে ছোট-বড় আকার ও মানভেদে এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। গত মে ও জুন মাসের তুলনায় চলতি মাসে দাম অনেকটাই কম রয়েছে।

এ সময়ে মসলার ক্রেতা কম ছিল। সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় সপ্তাহখানেক ধরে চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। তাই দামও একটু বাড়তি। বিশেষ করে এলাচ, লবঙ্গসহ গরম মসলার দাম বাড়ছে।

বাজারে লবঙ্গ ও দারচিনির দামও চড়া। লবঙ্গ পাইকারিতে ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা ও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি। বর্তমানে দারচিনির কেজি পাইকারিতে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খুচরায় ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা।

এলাকার ছোট দোকানগুলোয় লবঙ্গের কেজি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা ও দারুচিনির কেজি ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। তবে জিরার দাম বাড়েনি। জিরার কেজি পাইকারিতে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা ও খুচরায় ৩৬০ থেকে ৪০০টাকা।

গোলমরিচের খুচরা দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। সাদা গোল মরিচের দামও চড়া।

প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায়। জয়ত্রিকের কেজি তিন হাজার থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা, জয়ফল এক থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

এ ছাড়া মান ভেদে পেস্তা বাদাম এক হাজার ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, কাজু বাদাম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা ও কাঠবাদাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

কারওয়ানবাজারের মসলার আমদানীকারক মো. জুবায়ের আলী বলেন, করোনার মন্দা বাজারে চাহিদা কম থাকায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মসলার দাম স্থিতিশীল ছিল।

কিন্তু কোরবানি ঈদ ঘিরে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে ব্যবসায়ীদের চাহিদা বেড়েছে। এতে মজুদকৃত মসলা কমে যাওয়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে।

রামপুরা বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. শাহীন তালুকদার বলেন, প্রতিবছরই কোরবানির আগ মুহূর্তে গরম মসলার দাম বেড়ে যায়। এবার দাম ততটা বাড়েনি। তবে গত সপ্তাহে এলাচসহ কয়েকটি মসলার দাম বাড়তে শুরু করেছে।

এলাকাভেদে এলাচের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে দারুচিনি কেজিতে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা ও লবঙ্গ কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design & Developed BY N Host BD