শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০২:২৩ অপরাহ্ন

আল্লাহর অবাধ্যতার কিছু নগদ শাস্তি

নিউজ ডেস্কঃ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যে মন্দ কাজ করবে, তাকে সেই কাজের শাস্তি ভোগ করতে হবে।’ (সুরা নিসা : ১২৩)

পাপের শাস্তি যে শুধু পরকালে হবে তা নয়। দুনিয়াতেও মানুষ পাপের শাস্তি ভোগ করে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি অবশ্যই তাদের গুরু শাস্তির পূর্বে লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা সিজদা :২১)

আলোচ্য আয়াতে লঘু শাস্তি বলে দুনিয়ার বিপদাপদ ও রোগ-ব্যাধিকে বোঝানো হয়েছে। আর গুরু শাস্তি দ্বারা আখেরাতের কঠিন শাস্তি বোঝানো হয়েছে। পাপের কারণে মানুষ দুনিয়াতে যেসব শাস্তি ও ক্ষতির সম্মুখীন হয় তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:

বালা-মুসিবত

পাপের কারণে বিভিন্ন বালা-মুসিবত ও বিপর্যয় দেখা দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘জলে ও স্থলে মানুষের কৃতকর্মের দরুণ বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রোম :৪১)

তাফসিরে রুহুল আমানিতে উল্লেখ রয়েছে, ‘বিপর্যয়’ বলে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অগ্নিকাণ্ড, পানিতে নিমজ্জিত হওয়া, সব কিছু থেকে বরকত উঠে যাওয়া, উপকারী বস্তুর উপকার কম হওয়া ইত্যাদি আপদ-বিপদ বোঝানো হয়েছে।

অন্তরে জং

হাদিসে এসেছে, বান্দা যখন পাপ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। অতঃপর আরেকটি পাপ করলে আরেকটি দাগ পড়ে। এভাবে এক পর্যায়ে কৃষ্ণবিন্দুতে পুরো অন্তর আচ্ছাদিত হয়ে যায়। তখন সে অন্তরে পাপের অনুভূতিটুকুও অবশিষ্ট থাকে না। যেমন- দুর্গন্ধে যাদের বসবাস, দুর্গদ্ধ তাদের সয়ে যায়। তারা তখন দুর্গন্ধ আর সুগন্ধির মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তেমনিভাবে পাপী অন্তর ভালো ও মন্দের পার্থক্য বোঝে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘কখনো না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের অন্তরে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।’ (সুরা মুতাফফিফীন :১৪)

বিবেক বিকৃতি

মানুষ যখন অবিরাম পাপ করতে থাকে তখন তার বিবেক বিকৃত হয়ে যায়। তার চিন্তা-ভাবনা তখন ভুল পথে চলতে থাকে। ভালো কথাকে তখন তার কাছে মন্দ বলে মনে হয়। আর মন্দ কথাকে ভালো মনে হয়। দেখা যায়, অনেকে পাপ কাজ করে নানারকম ব্যাখ্যা খুঁজতে থাকে। যুক্তি দাঁড় করাতে চায় যে, এটা পাপ হবে কেন? এর মধ্যে তো এই উপকার আছে। ইবলিস আল্লাহর নির্দেশের সামনে যুক্তি পেশ করে বলেছিল, ‘আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। অতএব, আমি আদম থেকে উত্তম। তাকে সেজদা করতে পারব না।’ (সুরা আরাফ :১২)

পাপের ফলে তার বিবেক বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। সে এ কথা ভাবেনি যে, ‘যিনি আগুন সৃষ্টি করেছেন তিনিই তো মাটি সৃষ্টি করেছেন।’ সুতরাং তার নির্দেশ পালনে শ্রেষ্ঠত্বের কথা ভাবনার অবকাশ আছে?

রোগ-ব্যাধির আধিক্য

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘মানুষের মাঝে যখন পাপকর্ম, অশ্লীলতা ও উলঙ্গপনার বিস্তার ঘটবে তখন আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এমন সব রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত করবেন যেসব রোগের নাম তাদের পূর্বপুরুষরা কখনো শোনেনি।’ (ইবনে মাজা :৪০১৯)

খুন-খারাবি বৃদ্ধি

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘শেষ জমানায় মানুষের মধ্যে খুন-খারাবি অত্যধিক বেড়ে যাবে। মানুষ খুন হবে কিন্তু কেন খুন করা হলো এটা না নিহত ব্যক্তি জানতে পারবে না হত্যাকারী জানতে পারবে।’ (মুসলিম : ২৯০৮)

জীবনে অস্থিরতা

পাপের কারণে জীবন থেকে শান্তি ও স্বস্তি উবে যায়। সর্বদা অস্থিরতা ও টেনশনে ভুগতে হয়। মানুষ ব্যাপকভাবে যে ভুলটি করে তা হচ্ছে, সে পাপের মধ্যে শান্তি তালাশ করতে থাকে। অথচ পাপের মধ্যে শান্তি নেই, আছে অস্থিরতা ও পেরেশানি।

সম্মান নষ্ট : পাপের কারণে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা ও অপদস্থ হতে হয়।

স্মরণশক্তি হ্রাস : পাপের কারণে মানুষের স্মরণ। শক্তি হ্রাস পায়। বিশেষত ইলম ও আল্লাহর মারফেত লাভ হয় না।

উদাসীনতা সৃষ্টি : পাপের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো পাপের ফলে অলসতা ও উদাসীনতা সৃষ্টি হয়। পাপের ফলে মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহের কথা ভুলে যায়। আল্লাহকেও ভুলে যায়।

অধীনস্থরা অবাধ্য : মানুষ যখন আল্লাহর অবাধ্য হয় তখন তার অধীনস্থরাও তার অবাধ্য হয়। দেখা যায়, অনেকের সন্তানাদি পিতা-মাতার কথা মতো চলে না। স্ত্রী স্বামীর অবাধ্যচারণ করে। এটিও পাপের কারণে হতে পারে।

সুতরাং বোঝা গেল, আল্লাহর অবাধ্যতার পরিণাম বান্দা নগদই পেয়ে যায়। তাই আমাদের যাবতীয় পাপকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। কৃত পাপের জন্য তওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design & Developed BY N Host BD